ছালাত ত্যাগকারীর দুনিয়াবী ক্ষতিসমূহ
ছালাত ত্যাগকারীর দুনিয়াবী ক্ষতিসমূহ
এইচ,এম,হুজ্জাতুল্লাহ
ছালাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। ইসলাম গ্রহণের পর সর্বপ্রথম ফরয কাজ হলো ছালাত আদায় করা। ছালাতই একমাত্র ইবাদত যা মুসলিম আর অমুসলিমের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
তাই একজন মুসলিমের জীবনে ছালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এসম্পর্কে কু্রআন ও হাদীছের বর্ণনা নিম্নরুপ-
আল্লাহর বাণী-
وَ
اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوۃَ وَ ارۡكَعُوۡا مَعَ الرّٰكِعِیۡنَ
আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর।
(সূরা বাকারাহ, আয়াত নং ৪৩)
وَ اسۡتَعِیۡنُوۡا بِالصَّبۡرِ وَ الصَّلٰوۃِ ؕ وَ
اِنَّهَا لَكَبِیۡرَۃٌ اِلَّا عَلَی الۡخٰشِعِیۡنَ
আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো । আর নিশ্চয় তা বিনয়ীরা ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন।
(সূরা বাকারা, আয়াত : ৪৫)
یَوۡمَ
یُكۡشَفُ عَنۡ سَاقٍ وَّ یُدۡعَوۡنَ اِلَی السُّجُوۡدِ فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ
خَاشِعَۃً
اَبۡصَارُهُمۡ تَرۡهَقُهُمۡ ذِلَّۃٌ ؕ وَ قَدۡ كَانُوۡا یُدۡعَوۡنَ اِلَی
السُّجُوۡدِ وَ هُمۡ سٰلِمُوۡنَ
যেদিন (ক্বিয়ামতে) পায়ের গোছা (হাঁটুর নিম্নভাগ) উন্মোচিত হবে আর তাদেরকে ডাকা হবে সেজদা করার জন্য, কিন্তু তারা সেজদা করতে সক্ষম হবে না।
তাদের দৃষ্টিসমূহ অবনত অবস্থায় থাকবে, অপমান তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ তাদেরকে তো নিরাপদ অবস্থায় সিজদা করার জন্য আহবান করা হত (তখন তো তারা সিজদা করেনি)।
(সূরা ক্বলম, আয়াত নং ৪২,৪৩)
মহানবী সা. এর বলেন,
بُنِيَ
الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ
مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ
وَصَوْمِ رَمَضَانَ
মহানবী (সা.) বলেন, ‘ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এক. সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সা. আল্লাহর রাসূল। দুই. নামাজ কায়েম করা। তিন. জাকাত আদায় করা। চার. হজ্জ পালন করা। পাঁচ. রমজানের সিয়াম পালন করা।
(বুখারী-মুসলিম)
তিনি সা. আরো বলেন,
الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ
الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ "
আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে যে অংগীকার রয়েছে তা হলো সালাত (নামায/নামাজ)। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো।
(ইবনে মাজাহ, হাদীছ নং ১০৭৯, তিনমিযি, হাদীছ নং ২৬২১)
مَنْ
حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا وَبُرْهَانًا وَنَجَاةً يَوْمَ
الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ نُوْرٌ وَلَا بُرْهَان
وَلَا نَجَاةٌ وَكَانَ يَوْمَ
الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَأُبَيِّ بْنِ خَلَفٍ
যে ব্যক্তি নামাজের হেফাজত করবে (অর্থাৎ নিয়মিত যথাযথভাবে আদায় করবে),
তা কেয়ামতের দিন তার জন্য জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের হেফাযাত করবে না, তার জন্য এটা জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে না। কেয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই বিন খালফের সাথে থাকবে।
(মুসনাদে আহমাদ- ৬৫৪, ইবনে হিব্বান-১৪৬৭)
ছালাত ত্যাগকারীর ক্ষতিসমূহ:
১। শয়তান তার উপর প্রভাব বিস্তার করে।
শয়তান জান্নাত থেকে বিতারিত হয়েছে আল্লাহর হুকুমে সিজদাহ না করার জন্য। মানুষ যখন আল্লাহকে না সিজদাহ না দেয় তখন সে শয়তানের প্রিয় পাত্র হয়ে যায়। শয়তান তখন তার উপর প্রভাব বিস্তার করে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
اِسۡتَحۡوَذَ عَلَیۡهِمُ الشَّیۡطٰنُ فَاَنۡسٰهُمۡ ذِكۡرَ
اللّٰهِ ؕ اُولٰٓئِكَ حِزۡبُ الشَّیۡطٰنِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ حِزۡبَ الشَّیۡطٰنِ هُمُ
الۡخٰسِرُوۡنَ
শয়তান তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে; ফলে তাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে আল্লাহর স্মরণ। তারাই শয়তানের দল। সাবধান! নিশ্চয় শয়তানের দল ক্ষতিগ্ৰস্ত।
(সূরা মুজাদালা,আয়াত নং ১৯)
اِنَّنِیۡۤ اَنَا اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ
اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدۡنِیۡ ۙ وَ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِذِكۡرِیۡ ﴿۱۴﴾
‘নিশ্চয় আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং আমার ইবাদাত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর’।
(সূরা ত্বোহা, আয়াত নং ১৪)
২। জীবন সংকীর্ণ ও অশান্ত হয়ে যায়:
অনেকের জীবন এমন যে, সম্পদের প্রাচুর্যতা রয়েছে কিন্তু শান্তি নেই। তাকে প্রশ্ন করুন ভাই কেমন আছেন? উত্তর দিবে ভাই অশান্তি নেই, খুব কষ্টে আছি। ছেলে-মেয়ে কথা শোনে না, ব্যবসায় লাভ নেই ইত্যাদি। হ্রদয়ের প্রশান্তির জন্য প্রয়োজন আল্লাহর স্মরণ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
اَلَّذِیۡنَ
اٰمَنُوۡا وَ تَطۡمَئِنُّ قُلُوۡبُهُمۡ بِذِكۡرِ اللّٰهِ ؕ اَلَا بِذِكۡرِ اللّٰهِ
تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ
‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়’।
(সূরা রা’দ, আয়াত নং ২৮)
আল্লাহর স্মরণ ব্যতীত জীবন সংকীর্ণ হয়ে যাবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَ مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِكۡرِیۡ فَاِنَّ لَهٗ مَعِیۡشَۃً ضَنۡكًا
وَّ نَحۡشُرُهٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اَعۡمٰی
‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়।
(সূরা ত্বোহা, আয়াত নং ৪)
অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায়-
ইবনে কাসীর রহ. বলেন, দুনিয়ায় তার জন্য প্রশান্তি থাকবে না এবং তার অন্তর সংকীর্ণ থাকবে।
ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, সংকীর্ণ জীবন মানে হলো- তার অনেক সম্পদ থাকার পরও জীবন চলার পথ সংকীর্ণ থাকবে। অর্থাৎ, জীবনে প্রশান্তি থাকবে না।
৩। গুনাহে লিপ্ত হওয়া সহজ হয়ে যায়:
সালাত আদায়ের মাধ্যমে একজন মুসলিম শারীরিক ও আত্মিকভাবে পরিচ্ছন্ন হতে পারে। ওযূ ও গোসলের মাধ্যমে শরীর পবিত্র হয় আর সালাতের মাধ্যমে মন খারাপ চিন্তা থেকে মুক্ত থাকে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
اُتۡلُ مَاۤ
اُوۡحِیَ اِلَیۡكَ مِنَ الۡكِتٰبِ وَ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ ؕ اِنَّ الصَّلٰوۃَ
تَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَ الۡمُنۡكَرِ ؕ وَ لَذِكۡرُ اللّٰهِ اَكۡبَرُ ؕ وَ
اللّٰهُ یَعۡلَمُ مَا تَصۡنَعُوۡنَ
তোমার প্রতি যে কিতাব ওহী করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত কর এবং সালাত কায়েম কর। নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন যা তোমরা কর।
(সূরা আনকাবুত, আয়াত নং ৪৫)
৪। হ্রদয় কঠিন হয়ে যায়:
মানুষ পাপ কাজ করে তাওবা করলে তার পাপসমূহ ক্ষমা হয়ে যায় এবং আল্লাহ তায়ালা তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। পক্ষান্তরে, পাপ কাজ করে তাওবা না করলে তার অন্তর পাপের কারণে কঠিন হয়ে যায় তখন তার জন্য কল্যাণকর কিছু করা সম্ভব হয় না। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
كَلَّا
بَلۡ ٜ رَانَ عَلٰی قُلُوۡبِهِمۡ مَّا كَانُوۡا یَكۡسِبُوۡنَ
কক্ষনো না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে।
(সূরা মুতাফফিফীন, আয়াত নং ১৪)
তিনি আরো বলেন,
ثُمَّ
قَسَتۡ قُلُوۡبُكُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِكَ فَهِیَ كَالۡحِجَارَۃِ اَوۡ اَشَدُّ
قَسۡوَۃً ؕ
অতঃপর তোমাদের অন্তরসমূহ এর পরে কঠিন হয়ে গেল যেন তা পাথরের মত কিংবা তার চেয়েও শক্ত।
(সূরা বাকারাহ, আয়াত নং 74)
إن العبدَ إذا أخطأ
خطيئةُ نُكِتتْ في قلبهِ نُكتةً سوداءَ فإذا هو نزعَ واستغفرَ وتابَ سُقلَ قلبهُ
وإن عادَ زيدَ فيها حتى تعلو قلبهُ وهو الرانُ الذي ذكرَ اللهُ كَلّا بَلْ رَانَ
عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُواْ يَكْسِبُونَ
যদি কোনো বান্দা পাপ করে, তবে তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে। যদি সে অনুতপ্ত হয়, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসে, তবে তার হৃদয় পবিত্র হয়ে যায়। যদি সে আবার পাপে ফিরে যায়, তবে সেই দাগ বাড়তে বাড়তে তার হৃদয়কে ঢেকে ফেলে। এটাই সেই মরিচা যার কথা ঈশ্বর উল্লেখ করেছেন: {না, বরং তারা যা উপার্জন করত, তার কারণেই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরেছে।
(তিরমিযি, হাদীছ নং ৩৩৩৪, ইবনে মাজাহ, হাদীছ নং ৪২৪৪)
৫। আল্লাহর নিরাপত্তা ও জিম্মাদারি থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়:
مَنْ
صَلَّى صَلاةَ الصُّبحِ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّه، فَلا يَطْلُبنَّكُم اللَّهُ
مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ، فَإِنَّهُ مَنْ يَطْلُبْهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ
يُدرِكْه، ثُمَّ يَكُبُّهُ عَلَى وجْهِهِ في نَارِ جَهَنَّم
যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করে, সে আল্লাহর সুরক্ষাধীন থাকে। সুতরাং তাঁর সুরক্ষার ব্যাপারে তোমার কাছে আল্লাহর কোনো দাবি পেশ করো না, পাছে তিনি তোমাকে ধরে ফেলেন এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করেন।
(মুসলিম হাদীছ নং ৬৫৭)
يَعْقِدُ
الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ
يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ، فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ
فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ،
فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ،
وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ
তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ঘুমায়, শয়তান তার মাথার পেছনে তিনটি গিঁট বেঁধে দেয় এবং প্রতিটি গিঁটে আঘাত করে বলে: “তোমার সামনে দীর্ঘ রাত, তাই ঘুমিয়ে পড়ো।” যদি সে জেগে ওঠে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তাহলে একটি গিঁট খুলে যায়। যদি সে ওযু করে, তাহলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। যদি সে প্রার্থনা করে, তাহলে আরেকটি গিঁট খুলে যায় এবং সে উদ্যমী ও প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। অন্যথায়, সে বদমেজাজি ও অলস হয়ে যায়।
(বুখারী-মুসলিম)
৬। হত্যা যোগ্য অপরাধ:
ছালাত এমন একটি ইবাদত যা একজন মুসলিম ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করে। যা ছালাতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানের পর একজন মুসলিমের উপর আবশ্যকীয় পালনীয় বিধান হলো ছালাত আদায় করা। কুরআন মাজিদে ছালাত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি আলোকপাত করা হয়েছে যা ছালাতের গুরুত্ব বহন করে।
কুরআন ও হাদীছে ছালাত ত্যাগ করা হত্যাযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
فَاقۡتُلُوا
الۡمُشۡرِكِیۡنَ حَیۡثُ وَجَدۡتُّمُوۡهُمۡ وَ خُذُوۡهُمۡ وَ احۡصُرُوۡهُمۡ وَ
اقۡعُدُوۡا لَهُمۡ كُلَّ مَرۡصَدٍ ۚ فَاِنۡ تَابُوۡا وَ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَ
اٰتَوُا الزَّكٰوۃَ فَخَلُّوۡا سَبِیۡلَهُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর এবং তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে অবরোধ কর এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে বসে থাক। তবে যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে, আর যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(সূরা তাওবা, আয়াত নং ৫)
রাসূল (ছা.) বলেন,
أُمِرْتُ
أَن أُقاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَن لا إِلهَ إِلاَّ اللَّه وأَنَّ
مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، ويُقِيمُوا الصَّلاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكاةَ، فَإِذا
فَعَلوا ذلكَ، عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وأَمْوَالَهم إِلاَّ بحَقِّ الإِسلامِ،
وحِسابُهُمْ عَلى اللَّهِ مُتفقٌ عليه
মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ সংগ্রাম করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আর নামায কায়েম করবে ও (ধনের) যাকাত আদায় করবে। যখন তারা এগুলি বাস্তবায়ন করবে, তখন ইসলামী হক (অর্থদণ্ড ইত্যাদি) ছাড়া তারা নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে সুরক্ষিত করে নেবে। আর (অন্তরের গভীরে কুফরী বা পাপ লুকানো থাকলে) তাদের হিসাব আল্লাহর যিম্মায়।
(বুখারী ও মুসলিম)
ছালাত
ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। গুরুত্বের বিবেচনায় ছালাতের অবস্থান সকল ইবাদতের উপর। একজন
মুসলিমের অস্তিত্ব বহন করে ছালাত। একজন মুসলিমের জ্ঞান থাকা অবস্থায় ছালাত ত্যাগ করার
সুযোগ নেই বা কোন ওযর পেশ করা যাবে না।
একজন সন্তান সাত বছর বয়সে উপনীত হলে মা-বাবার
উপর দায়িত্ব হলো তাকে ছালাতের প্রশিক্ষণ দেয়া। আবার দশ বছর বয়সে ছালাত আদায় না করার
কারণে তাকে প্রহার করার অনুমতি ইসলাম মা-বাবাকে দিয়েছে।
আফসোসের জায়গা হলো- বর্তমানে অধিকাংশ মা-বাবা
এ দায়িত্বের ব্যাপারে চরম উদাসীন। যার কঠিন পরিণতি মা-বাবাকে দুনিয়া ও আখেরাতে ভোগ
করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ছালাতের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার তাওফীক দান করুন,
আমীন।
সংকলক,
বি.টি.আই.এস- অনার্স
এম.টি.আই.এস- মাস্টার্স
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

No comments
Post a Comment