“আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম সাদাক্বাহ বা দান”

 


“আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম সাদাক্বাহ বা দান”

এইচ,এম,হুজ্জাতুল্লাহ

দানের গুরুত্ব ও ফযিলত:-

() সাদাক্বাহ  গোনাহকে মিটিয়ে দেয় :

 রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,

 الصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ المَاءُ النَّارَ،

ছাদাক্বা গোনাহকে নিভিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়

আহমাদ হা/১৫৩১৯; তিরমিযী হা/৬১৪; ইবনু মাজাহ হা/৪২১০; মিশকাত হা/২৯, রাবী মুআয বিন জাবাল (রাঃ); ছহীহাহ হা/১১২২।

তিনি বলেন

,إِنَّ الصَّدَقَةَ لَتُطْفِئُ عَنْ أَهْلِهَا حَرَّ الْقُبُورِ، وَإِنَّمَا يَسْتَظِلُّ الْمُؤْمِنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي ظِلِّ صَدَقَتِهِ،...حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ

নিশ্চয় সাদাক্বাহ কবরের উত্তাপ নিভিয়ে দেয় এবং ক্বিয়ামতের দিন মুমিন তার সাদাক্বার ছায়াতলে আশ্রয় পাবে... মানুষের মধ্যে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত

ত্বাবারাণী কাবীর হা/৭৮৮, রাবী ওক্ববা বিন আমের (রাঃ); ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৩১০; ছহীহাহ হা/৩৪৮৪

() সাদাক্বার নেকী অপরিসীম : 

রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,

 مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللهِ كُتِبَتْ لَهُ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ-

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তার জন্য সাতশ গুণ নেকী লেখা হয়

তিরমিযী হা/১৬২৫; নাসাঈ হা/৩১৮৬; মিশকাত হা/৩৮২৬, রাবী খুরাইম বিন ফাতেক (রাঃ)

তিনি বলেন

,يَا ابْنَ آدَمَ إِنْ تَبْذُلِ الْفَضْلَ خَيْرٌ لَكَ، وَإِنْ تُمْسِكْهُ شَرٌّ لَكَ، وَلاَ تُلاَمُ عَلَى كَفَافٍ، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ- ‘

হে আদম সন্তান! প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে সম্পদ তোমার কাছে আছে তা খরচ করা তোমার জন্য (দুনিয়া আখিরাতে) কল্যাণকর। আর তা খরচ না করা হবে অকল্যাণকর। প্রয়োজনীয় পরিমাণ ধন-সম্পদ (জমা করায়) দোষ নেই। তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ ব্যয়ের কাজ নিজ পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করো

মুসলিম হা/১০৩৬; মিশকাত হা/১৮৬৩, রাবী আবু উমামাহ (রাঃ)

হাদীছে কুদসীতে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,

,قَالَ اللهُ تَعَالَى : أَنْفِقْ يَا ابْنَ آدَمَ أُنْفِقْ عَلَيْكَ-

 আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি দান কর, তোমাকেও দান করা হবে

বুখারী হা/৫৩৫২; মুসলিম হা/৯৯৩; মিশকাত হা/১৮৬২।

আল্লাহ বলেন,

 وَمَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمُ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللهِ وَتَثْبِيتًا مِّنْ أَنْفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍم بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌ فَآتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ، فَإِنْ لَّمْ يُصِبْهَا وَابِلٌ فَطَلٌّ، وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ-

আর যারা ধন-সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ছওয়াব লাভের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে, তাদের উদাহরণ সমভূমির বাগিচার মত, যেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত লে দ্বিগুণ শস্য উৎপাদিত হয়। আর প্রবল বৃষ্টি না লে হাল্কা বৃষ্টিই যথেষ্ট হয়। বস্ত্তত তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সবই দেখেন 

( সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত নং ২৬৫)

রাসূলুল্লাহ  সা. বলেন,

 لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا لَسَرَّنِي أَنْ لاَ يَمُرَّ عَلَيَّ ثَلاَثُ لَيَالٍ وَعِنْدِي مِنْهُ شَيْءٌ إِلاَّ شَيْءٌ أَرْصُدُهُ لِدَيْنٍ-

যদি আমার নিকট ওহোদ পাহাড় সমান সোনা থাকত, তাহলে আমি এটা পসন্দ করতাম যে, ঋণ পরিশোধের জন্য পরিমাণ মত বাকী রেখে অবশিষ্ট সবটাই তিন দিন অতিবাহিত না তেই আল্লাহর পথে ব্যয় করে ফেলি

বুখারী হা/৬৪৪৫; মিশকাত হা/১৮৫৯, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ  সা. বলেন,

 مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَيَقُولُ الْآخَرُ: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا-

প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করে। তাদের একজন বলে, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন। অপরজন বলে, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করুন

বুখারী হা/১৪৪২; মুসলিম হা/১০১০; মিশকাত হা/১৮৬০, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)

() আল্লাহ তাআলা সাদাক্বা নিজ হাতে গ্রহণ করেন :

 রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,

 مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ وَلاَ يَقْبَلُ اللهُ إِلاَّ الطَّيِّبَ وَإِنَّ اللهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ كَمَا يُرَبِّى أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ-

যে ব্যক্তি তার হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুরের সমপরিমাণ দান করল, আর আল্লাহ হালাল ব্যতীত কবুল করেন না, আল্লাহ তা নিজ ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর দানকারীর জন্য তা বৃদ্ধি করতে থাকেন, যেভাবে তোমাদের কেউ ঘোড়ার বাচ্চা পালন করে তা বৃদ্ধি করতে থাক, এমনকি তা পাহাড় সমান হয়ে যায়

বুখারী হা/১৪১০; মুসলিম হা/১০১৪; মিশকাত হা/১৮৮৮; ‘যাকাত অধ্যায় দানের মাহাত্ম্য অনুচ্ছেদ, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)

(৪)  সাদাক্বাহ ব্যক্তিকে পবিত্র করে :

 সাদাক্বার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জিত হয়। অন্তরের কৃপণতা দূর হয়। কারো সম্পদের পাহাড় না থাকলেও আল্লাহ তার অন্তরে প্রাচুর্য দান করেন।

সেজন্য আল্লাহ স্বীয় রাসূলকে বলেন

,خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا،

 তুমি তাদের সম্পদ থেকে সাদাক্বাহ গ্রহণ কর। যা দ্বারা তুমি তাদের (কৃপণতার কলুষ তে) পবিত্র করবে পরিশুদ্ধ করবে।

( সূরা তওবা ,আয়াত নং ১০৩)

 () সাদাক্বাহ আল্লাহর ক্রোধ নিভিয়ে দেয় :

 রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,

,صَنَائِعُ الْمَعْرُوفِ تَقِي مَصَارِعَ السُّوءِ، وَصَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ تَزِيدُ فِي الْعُمُرِ-

সৎকর্ম সমূহ মন্দ পরিণতি থেকে রক্ষা করে। গোপন সাদাক্বাহ আল্লাহর ক্রোধ নিভিয়ে দেয়। আর আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে বয়স বৃদ্ধি পায়

ত্বাবারাণী কাবীর হা/৮০১৪, রাবী আবু উমামা বাহেলী (রাঃ); ছহীহুত তারগীব হা/৮৮৯।

() সাদাক্বারোগ-ব্যধি দূর করে :

 রাসূলুল্লাহ  সা. বলেন,

,دَاوُوْا مَرْضَاكُمْ بِالصَّدَقَةِ، وَحَصِِّنُوْا أَمْوَالَكُمْ بِالزَّكَاةِ، وَأَعِدُّوْا لِلْبَلاَءِ الدُّعَاءَ-

তোমরা তোমাদের পীড়িতদের চিকিৎসা কর সাদাক্বার মাধ্যমে, তোমরা তোমাদের সম্পদকে সুরক্ষিত কর যাকাত দানের মাধ্যমে এবং বালা-মুছীবত থেকে বাঁচার চেষ্টা কর দোআর মাধ্যমে

বায়হাক্বী /৩৮২ পৃ., হা/৬৮৩২, রাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ); ছহীহুল জামে হা/৩৩৫৮, সনদ হাসান। 

() সাদাক্বাহ দাতা ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়াতলে থাকবে :

 রাসূলুল্লাহ  সা. বলেন,

,سَبْعَةٌ يُّظِلُّهُمُ اللهُ فِى ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ...وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ،

সাত শ্রেণীর লোক যাদেরকে আল্লাহ ছায়া দিবেন নিজের ছায়ায়, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না। ...সেই ব্যক্তি, যে গোপনে দান করে, এমনকি তার বাম হাত জানতে পারে না, তার ডান হাত কি দান করল

বুখারী হা/৬৬০; মুসলিম হা/১০৩১; মিশকাত হা/৭০১, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)

 () সাদাক্বার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি মেলে :

 জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ যে ব্যবসার কথা বলেছেন, সেখানেও তিনি বলেছেন

,يَآأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ- تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ، ذَالِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ-

হে বিশ্বাসীগণ! আমি কি তোমাদের এমন একটি ব্যবসায়ের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তে মুক্তি দিবে?’ তোমরা আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে তোমাদের মাল জান দিয়ে। সেটাই তোমাদের জন্য উত্তম হবে, যদি তোমরা বুঝ।

( সূরা ছফ, আয়াত নং ১০-১১)

উক্ত আয়াতে মালের কথা আগে বলা হয়েছে, কারণ জিহাদে প্রথম মালের প্রয়োজন হয় (কুরতুবী)

একইভাবে রাসূলুল্লাহ  সা. বলেছেন,

,جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ-

তোমরা জিহাদ কর মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের মাল দ্বারা, জান দ্বারা যবান দ্বারা

আবুদাঊদ হা/২৫০৪; নাসাঈ হা/৩০৯৬; দারেমী হা/২৪৭৫; মিশকাত হা/৩৮২১, রাবী আনাস (রাঃ); ছহীহুল জামে হা/৩০৯০।

এখানেও মালের কথা আগে বলা হয়েছে। অতএব মুসলিম জীবনে কৃপণতার কোন অবকাশ নেই।

 (৯) সাদাক্বাই প্রকৃতপরকালীন সঞ্চয় :

বিশুদ্ধ নিয়তে হালাল সম্পদ যতটুকু সাদাক্বাহ করা হবে, ততটুকুই আমাদের পরকালীন পাথেয় হিসাবে সঞ্চিত থাকবে। তাই যার সাদাক্বাহ যত বেশী, তার সঞ্চয় তত বেশী।

রাসূলুল্লাহ  সা. বলেন,

 يَقُوْلُ الْعَبْدُ مَالِىْ مَالِىْ، وَإِنَّ مَا لَهُ مِنْ مَالِهِ ثَلاَثٌ : مَا أَكَلَ فَأَفْنَى أَوْ لَبِسَ فَأَبْلَى أَوْ أَعْطَى فَاقْتَنَى، وَمَا سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ ذَاهِبٌ وَتَارِكُهُ لِلنَّاسِ-

বান্দা বলে আমার মাল, আমার মাল। অথচ তার মাল সমূহের মধ্যে তার জন্য মাল মাত্র তিনটি : () যা সে খায় শেষ করে। () যা সে পরিধান করে জীর্ণ করে এবং () যা সে ছাদাক্বা করে সঞ্চয় করে। এগুলি ব্যতীত বাকী সবই চলে যায় এবং লোকদের জন্য সে ছেড়ে যায়

মুসলিম হা/২৯৫৯; মিশকাত হা/৫১৬৬ রিক্বাক্ব অধ্যায়, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)

নবী করীম  সা. লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি নিজের সম্পদের চাইতে তার উত্তরাধিকারীর সম্পদকে অধিক প্রিয় মনে করে? তারা সবাই জবাব দিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার নিজের সম্পদকে সবচেয়ে অধিক প্রিয় মনে করে না। তখন তিনি বললেন,

فَإِنَّ مَالَهُ مَا قَدَّمَ، وَمَالُ وَارِثِهِ مَا أَخَّرَ-

 নিশ্চয়ই মানুষের নিজের সম্পদ তা-, যা সে (আল্লাহর পথে ব্যয়ের মাধ্যমে) অগ্রিম পাঠায়। আর যা সে পিছনে ছেড়ে যাবে, তা তার ওয়ারিছদের মাল

বুখারী হা/৬৪৪২; মিশকাত হা/৫১৬৮, রাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ)

তিনি আরো বলেন,

 يَتْبَعُ الْمَيِّتَ ثَلاَثَةٌ، فَيَرْجِعُ اثْنَانِ وَيَبْقَى مَعَهُ وَاحِدٌ، يَتْبَعُهُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَعَمَلُهُ، فَيَرْجِعُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ، وَيَبْقَى عَمَلُهُ-

মাইয়েতের সাথে তিনজন যায়। তার মধ্যে দুজন ফিরে আসে একজন থেকে যায়। মাইয়েতের সঙ্গে যায় তার পরিবার, তার মাল তার আমল। অতঃপর তার পরিবার মাল ফিরে আসে এবং আমল তার সাথে থেকে যায়

বুখারী হা/৬৫১৪; মুসলিম /২৯৬০; মিশকাত হা/৫১৬৭, রাবী আনাস বিন মালেক (রাঃ)




দান থেকে বিরত থাকার কুফল:-

 রাসূলুল্লাহ  সা. বলেন, ‘কাবার রবের কসম! তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। রাবী বলেন, আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গীত হৌন! তারা কারা? রাসূল  সা. বললেন,

 هُمُ الْأَكْثَرُونَ أَمْوَالاً، إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا مِنْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ وَعَنْ يَّمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ وَقَلِيلٌ مَّا هُمْ-

যাদের ধন-সম্পদ বেশী তারা। কিন্তু যে ব্যক্তি এরূপ করে, এরূপ করে এরূপ করে অর্থাৎ সামনের দিকে, পিছন দিকে, ডান দিকে বাম দিকে সর্বদা দান করে তবে এরূপ লোক খুবই কম

মুসলিম হা/৯৯০; মিশকাত হা/১৮৬৮, রাবী আবু যার গিফারী (রাঃ)

অন্যত্র তিনি বলেন,

,فَوَاللهِ لاَ الْفَقْرُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ، وَلَكِنْ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا، وَتُهْلِكُكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ-

আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সম্পর্কে দরিদ্রতার ভয় করি না; কিন্তু আমি ভয় করি যে, তোমাদের উপর দুনিয়াকে প্রশস্ত করে দেওয়া হবে যেমন প্রশস্ত করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর। আর তোমরা তা লাভ করার জন্য ঐরূপ প্রতিযোগিতা করবে যেরূপ তারা প্রতিযোগিতা করেছিল। ফলে তা তোমাদেরকে ধ্বংস করবে যেরূপ তাদেরকে ধ্বংস করেছিল।

বুখারী হা/৬৪২৫; মুসলিম হা/২৯৬১; মিশকাত হা/৫১৬৩ রিক্বাক্ব অধ্যায়, রাবী আমর বিন আওফ (রাঃ)

কৃপণ ব্যক্তিকে মন্দ লোক অভিহিত করে অপর এক হাদীছে রাসূল  সা. বলেন,

,أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِشَرِّ النَّاسِ مَنْزِلاً؟ قِيلَ : نَعَمْ، قَالَ الَّذِي يُسْأَلُ بِاللهِ وَلاَ يُعْطِي بِهِ-

আমি কি তোমাদের সর্বাপেক্ষা মন্দস্তরের ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না? বলা , হ্যাঁ বলুন। তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তির নিকট আল্লাহর নামে কিছু চাওয়া হয়, অথচ সে তাঁর নামে কিছু দেয় না

আহমাদ হা/২৯২০, হাদীছ ছহীহ-আরনাঊত্ব; মিশকাত হা/১৮৮১।

সুতরাং আমাদের আমলের মধ্যে অবশ্যই দান-ছাদাক্বার পরিমাণ বেশী হওয়া উচিত।

 

দান করার পর করণীয়:-

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُبۡطِلُوۡا صَدَقٰتِکُمۡ بِالۡمَنِّ وَالۡاَذٰیۙ کَالَّذِیۡ یُنۡفِقُ مَالَہٗ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِؕ فَمَثَلُہٗ کَمَثَلِ صَفۡوَانٍ عَلَیۡہِ تُرَابٌ فَاَصَابَہٗ وَابِلٌ فَتَرَکَہٗ صَلۡدًاؕ لَا یَقۡدِرُوۡنَ عَلٰی شَیۡءٍ مِّمَّا کَسَبُوۡاؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ

হে মুমিনগণ! খোটা দিয়ে কষ্ট দিয়ে নিজেদের সদাকাকে সেই ব্যক্তির মত নষ্ট করো না, যে নিজের সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে দেখানোর জন্য এবং আল্লাহ পরকালে বিশ্বাস রাখে না। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত রকম যেমন এক মসৃণ পাথরের উপর মাটি জমে আছে, অতঃপর তাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ে এবং তা (সেই মাটিকে ধুয়ে নিয়ে যায় এবং) সেটিকে (পুনরায়) মসৃণ পাথর বানিয়ে দেয়। এরূপ লোক যা উপার্জন করে, তার কিছুমাত্র তারা হস্তগত করতে পারে না। আর আল্লাহ (এরূপ) কাফিরদেরকে হিদায়াতে উপনীত করেন না।

(সূরা বাক্বারাহ, আয়াত নং ২৬৪)

No comments

Powered by Blogger.